সংগৃহীত
করোনার ভয়াল থাবায় জনজীবন অস্থির, স্থবির। এর মধ্যেও বছর ঘুরে এসেছিল সৃষ্টিকর্তার দয়া, কৃপা ও আনুকূল্যের মাস পবিত্র ‘মাহে রমজান।’
এবার রোজায় প্রায় প্রতি রাতে ক্রিকেট অনুরাগীরা পেয়েছেন ভিন্ন খোরাক। রাতে (১০ টা বা সাড়ে ১০ টায়) দুটি ভিন্ন ‘লাইভ শো’ সবার মন কেড়েছে। একটি দেশসেরা ওপেনার ও ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের ফেসবুক লাইভ।
যে লাইভ শোতে বর্তমান-সাবেক স্বদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, ওয়াসিম আকরাম, ফাফ ডু প্লেসিস, কেন উইলিয়ামসনের মতো বিদেশি তারকাদের এনে রীতিমত সাড়া ফেলেন তামিম। টাইগার ওয়ানডে অধিনায়কের চমৎকার সঞ্চালন, প্রাণখোলা আড্ডার মেজাজে গল্প শুনে করোনার অস্তস্তির মাঝেও খানিক স্বস্তির পরশ পেয়েছেন ক্রিকেট অনুরাগীরা।
এছাড়া নামি ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের ইউটিউব লাইভ ‘নট আউট নোমান’ চুটিয়ে উপভোগ করেছেন দর্শকরা। তিনি দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট তারকার সাথে ইউটিউব আড্ডায় মেতে উঠেছেন।
আজ রাতে নোমানের সেই ইউটিউব আড্ডায় আসছেন দেশের ক্রিকেটের সব সময়ের অন্যতম সেরা স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় শুরু হবে ঐ ইউটিউব লাইভ আড্ডা।
মোহাম্মদ আশরাফুল যদি হন প্রথম তারকা, তাহলে রফিক হলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম আলোচিত চরিত্র। তার ক্রিকেটার হবার গল্পটা অন্যদের চেয়ে একদম ভিন্ন। যার জীবন, ক্যারিয়ার সবটাই রূপকথার গল্পের মত।
সেই বুড়িগঙ্গার ওপারের কেরানিগঞ্জের অঁজোপাড়া গাঁ থেকে উঠে আসা। প্রতিদিন নৌকায় করে শ্যামবাজার ঘাট দিয়ে এপাড়ে আসা।তারপরও নিজেকে গড়ার অদম্য স্পৃহা, প্রাণপন চেষ্টায় বাঁহাতি পেসার থেকে স্পিনার হয়ে ওঠা।
গেন্ডারিয়া ক্রিকেটার্সের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগ ওরিয়েন্টের পক্ষে প্রথম বিভাগ খেলে অনেক চরাই উৎরাই পার হয়ে কঠিন লড়াই-সংগ্রামের পর ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের বড় দল বিমানে নাম লিখানো। সেখান থেকে আরেক বড় দল জনপ্রিয় মোহামেডানে যোগ দেয়া। তার পরপরই আন্তজাতিক ক্রিকেটার হিসেবে যাত্রা শুরু। সেখানে নিজেকে মেলে ধরা। ৯৭‘র আইসিসি ট্রফি বিজয়ের অন্যতম রূপকার।
১৯৯৮ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট জয়েরও অন্যতম কুশীলব। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারি। সব মিলে একজন বাঁহাতি স্পিনারের প্রতিমূর্তি।
যিনি বিষমাখা স্পিনে বধ করেন বিশ্বের সব বড় বড় ব্যাটসম্যানকে। সাথে দুরন্ত ফিল্ডিং ও হাত খুলে মারতে পারার অসামান্য ক্ষমতাও ছিল। একদম ‘পরিপূর্ণ প্যাকেজ’ যাকে বলে!
সাকিব-মাশরাফির আগে রফিকই ছিলেন বাংলাদেশের বোলিংয়ের মূল শক্তি। তাকে ঘিরেই আবর্তিত হতো টিম বাংলাদেশের বোলিং। এই অসাধারণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার এমনিতে প্রাণখোলা। তবে সে অর্থে মিডিয়ার সামনে আসেন কম। বরাবরই নিজেকে একটু আড়াল করে রাখেন।
খেলা ছেড়ে মাঝে বেশ কিছু দিন ব্যবসায় মনোযোগী ছিলেন। এখন কোচিং করান । বিপিএলে গত কয়েক বছর স্পিন কোচের ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। এবার প্রিমিয়ার লিগে শেখ জামালের কোচ হয়েছেন রফিক।
আজ নোমান মোহাম্মদের আড্ডায় সেই চিরচেনা রফিককে খুঁজে পাবেন তার ভক্তরা। ‘ড্যাবরা’ রফিকের (বাঁহাতি হবার কারণে এলাকায় তাকে এ নামেই ডাকা হতো) পেস বোলিং ছেড়ে স্পিনার হবার গল্প, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সব সময়ের সেরা ও সবচেয়ে কার্যকর বোলিং অস্ত্র হয়ে ওঠার কাহিনী শুনে নিশ্চয়ই বিমোহিতই হবে বর্তমান প্রজন্ম।
এ ন্যাচারাল ট্যালেন্ট হতে পারেন দেশের নতুন প্রজন্মর স্পিন কোচ, পরামর্শক । দায়িত্ব পেলে রফিক কি দেশের ক্রিকেটে স্পিনার গড়ার কারিগর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চান? এসব কথা জানতে উন্মুখ অগণিত ভক্ত, সমর্থক ও ক্রিকেট অনুরাগী।
স্বপ্নচাষ/এসএস
বাংলাদেশ সময়: ১০:০৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০
swapnochash24.com | sopnochas24
শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
---|---|---|---|---|---|---|
১ | ২ | |||||
৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ |
১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ |
১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ |
২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ |